কিল-ঘুষি, হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাতের পাশাপাশি ‘ফ্লাইং কিক’ মারা হয়
· Prothom Alo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) দুই তরুণী ও এক তরুণকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মারধর ও নির্যাতনের ঘটনার ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ সামনে এসেছে। বুধবার শেষরাতের ওই ঘটনার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, টিএসসিতে ওই তরুণ-তরুণীদের কিল-ঘুষি, লাঠি ও হেলমেট দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি ‘ফ্লাইং কিক’ মারা হয়।
এর আগে গত বুধবার রাতে টিএসসিতে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও আমরা নিরাপদ না...আমাদের মারধর করে ঢাবি শিক্ষার্থীরা।’
Visit asg-reflektory.pl for more information.
পরে ভিডিও দেখে মারধরে জড়িত দুই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাঁরা হলেন বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার তুষার।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছেন। ঘটনার ভিডিও দেখে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
প্রথমে ঘটনার একটি ভিডিওর পর শুক্রবার ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজ অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৪টা ৫৩ মিনিটে টিএসসি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে নামেন এক তরুণ ও এক তরুণী। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তরুণ-তরুণী মোটরসাইকেল থেকে নামার পর ওই শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছে যান।
ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রথমে মোটরসাইকেলচালক তরুণের ওপর হামলা চালান। পরে ভুক্তভোগীদের পরিচিত আরও দুই তরুণী ও এক যুবক ঘটনাস্থলে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলা এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মাথায় একাধিকবার হেলমেট দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া কিল-ঘুষি ও ‘ফ্লাইং কিক’ দিতে দেখা যায় হামলাকারীদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি