ভাষা নিয়ে পড়বেন কেন, ক্যারিয়ার কোথায়, কী কী সুযোগ আছে
· Prothom Alo
উচ্চমাধ্যমিকের পর বিষয় নির্বাচনের প্রথাগত ধারায় আমরা সাধারণত বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার মতো বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিই। কিন্তু বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পৃথিবী এখন একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’। এই বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনা এখন আর কেবল শখের বিষয় নয়, বরং পেশাজীবনের জন্য একটি শক্তিশালী ও সময়োপযোগী উপায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, যাঁরা কেবল ভাষার দক্ষতা দিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ ভালো করেছেন।
Visit tr-sport.click for more information.
কেন পড়বেন ভাষা ও সংস্কৃতি
অনেকেই মনে করেন ভাষা শেখা মানে কেবল কিছু শব্দ বা ব্যাকরণ আয়ত্ত করা। কিন্তু বিষয়টি এর চেয়ে অনেক গভীর। কোনো একটি ভাষা শেখার অর্থ হলো সেই অঞ্চলের মানুষের চিন্তা, ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করা। বহুজাতিক কোম্পানি, দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোতে এমন জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে, যাঁরা অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষ। আপনি যদি জার্মান, ফরাসি, জাপানি বা চীনা ভাষায় দক্ষ হন, তবে সেসব দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোতে অনেক সময় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে বা নামমাত্র খরচে পড়ার সুযোগ মেলে, যদি আপনার ভাষার ওপর দখল থাকে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, নতুন একটি ভাষা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সহনশীলতা ও উদারতা তৈরি করে। এই অভিজ্ঞতা পেশাজীবনেও আপনাকে এগিয়ে রাখবে।
‘কী শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’ থেকে লাক্স সুপারস্টারচাকরির সুযোগ ও সম্ভাবনা
ভাষা ও সংস্কৃতিতে ডিগ্রিধারীদের জন্য চাকরির বাজার অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। প্রথাগত বিসিএস বা ব্যাংকের চাকরি ছাড়াও আরও কিছু রোমাঞ্চকর ক্ষেত্র রয়েছে। অনেকে ভাষা নিয়ে পড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাসেও কাজ করেন। লিয়াজোঁ অফিসার বা কালচারাল অ্যাটাশে হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার এটি সেরা সুযোগ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বা বিজনেস মিটিংয়ে দোভাষী হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে অনুবাদের কাজ করে সম্মানজনক আয় করা সম্ভব।
বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক চীনা, জাপানি ও কোরীয় বিনিয়োগকারী কাজ করছেন। তাঁদের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভাষা জানা গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
আপনি চাইলে দেশে বা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা গবেষণাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা ফরাসি বা জাপানি ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রি নেন, তাঁদের জন্য বৃত্তি নিয়ে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকে অনেক বেশি।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার পরামর্শ—সাহিত্যের প্রতি যদি আপনার টান থাকে, মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিকে জানার আগ্রহ থাকে, তবে দ্বিধাহীনভাবে ভাষা ও সংস্কৃতিকে মূল পাঠ্য বিষয় হিসেবে বেছে নিতে পারেন। এটি কেবল একটি ডিগ্রি দেবে না, একজন ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রথাগত ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রতিযোগিতার বাইরেও এক বিশাল জগৎ আপনার অপেক্ষায় আছে।
কোথায় পড়া যাবে
বাংলাদেশে এখন ভাষা শিক্ষার সুযোগ কেবল স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার সুযোগ আছে। কয়েকটি সুযোগের খোঁজ জানা যাক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট বর্তমানে ফরাসি, জাপানি এবং চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চার বছরের বিএ (অনার্স) কোর্স অফার করছে। এই কোর্সগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে শিক্ষার্থীরা কেবল ভাষাই নয়, অনুবাদ ও ইন্টারপ্রিটেশনেও দক্ষ হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ কয়েক দশক ধরে দেশের শ্রেষ্ঠ ইংরেজি শিক্ষক ও গবেষক তৈরি করছে। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগ ইংরেজি ভাষায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়। তাদের পাঠ্যক্রমটি এমনভাবে তৈরি যেন শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক যোগাযোগে দক্ষ হয়। ভবিষ্যতে যাঁরা সাংবাদিকতা, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের মতো পেশায় যেতে আগ্রহী, তাঁরা এই বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন। বিস্তারিত মিলবে এখানে।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি: আধুনিক বিশ্বের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগে এমন সব কোর্স অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা শিক্ষার্থীদের করপোরেট জগতে টিকে থাকতে সাহায্য করে। ইউআইইউ মূলত লিঙ্গুইস্টিকস ও যোগাযোগদক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব): ইউল্যাবের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগ চার বছরের বিএ অনার্স ডিগ্রি দেয়। এখানে সাহিত্য ও লিঙ্গুইস্টিকসের পাশাপাশি কালচারাল স্টাডিজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিস্তারিত ওয়েবসাইটে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ বিশ্বমানের পাঠ্যক্রমের জন্য পরিচিত। এখানে সাহিত্য এবং ফলিত ভাষাতত্ত্ব ও ইএলটির (ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং) সমন্বয়ে প্রোগ্রামটি সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধি ও গবেষণাধর্মী কাজে উদ্বুদ্ধ করতে ব্র্যাকের বিশেষ সুনাম আছে। বিস্তারিত ওয়েবসাইটে।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি): ইংরেজি ভাষার ওপর বিশেষায়িত বিএ ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং প্রোগ্রামটি আইইউবিতে বেশ জনপ্রিয়। যাঁরা শিক্ষকতা বা ভাষা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এটি চমৎকার সুযোগ। আধুনিক ল্যাব ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের মাধ্যমে এখানে ইংরেজি ভাষার প্রায়োগিক দিকগুলো শেখানো হয়। বিস্তারিত ওয়েবসাইটে।
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি): এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ আধুনিক ও যুগোপযোগী সিলেবাস অনুসরণ করে। তাত্ত্বিক সাহিত্যের পাশাপাশি ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য পায়। এখানকার একাডেমিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। বিস্তারিত ওয়েবসাইটে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি): বিইউপির ইংরেজি বিভাগটি তাদের ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের অন্তর্ভুক্ত। এখানে বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা দুটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র নির্বাচনের সুযোগ পায়—ইংরেজি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও ফলিত ভাষাতত্ত্ব। উচ্চতর শিক্ষার জন্য এখানে এমএ প্রোগ্রামও আছে। বিস্তারিত ওয়েবসাইটে।