ভোর ৫টায় উঠলে আরও কর্মক্ষম হবেন, কিন্তু একটি সমস্যা আছে

· Prothom Alo

ভোর ৫টায় অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখবেন, একদল মানুষ এরই মধ্যে দিন জয় করে ফেলেছে! বরফশীতল পানিতে গোসল, ডায়েরি লেখা কিংবা সূর্যোদয়ের আগেই দৌড়াতে বের হওয়া; যেন এটাই সফলতার মূলমন্ত্র।

মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা খুব সহজ, ‘সকালে উঠুন, জীবনে সফল হোন।’ কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে? আপনি শুনলে অবাক হবেন, সবার জন্য ভোর ৫টার এই রুটিন আসলে আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ ডেকে আনতে পারে!

Visit saltysenoritaaz.com for more information.

সবার শরীর একইভাবে কাজ করে না। আমাদের শরীরের একটি নিজস্ব ঘুমের বায়োলজিক্যাল ঘড়ি বা ছন্দ আছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ক্রোনোটাইপ। এটি মূলত আমাদের জিনের ওপর নির্ভর করে এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়।

৪৫ মিনিটের ঘুম মস্তিষ্কের শেখার ক্ষমতা বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে ওঠা স্বভাবের মানুষেরা স্কুল-কলেজে ভালো ফল করে, নিয়মিত ব্যায়াম করে এবং তাদের মধ্যে বাজে আসক্তি তুলনামূলক কম থাকে।

ক্রোনোটাইপ অনুযায়ী মানুষ সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত। বাংলায় একে আমরা বলতে পারি ভোরের পাখি ও রাতের পেঁচা। ভোরের পাখি মানে এরা প্রাকৃতিকভাবেই খুব ভোরে ওঠে এবং সকালের দিকে কাজে সবচেয়ে বেশি শক্তি পায়। অ্যালার্ম ছাড়াই এদের ঘুম ভেঙে যায়। অন্যদিকে রাতের পেঁচা মানে এরা রাতের বেলা সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম থাকে এবং সকালে উঠতে এদের ভীষণ কষ্ট হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষ এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে ওঠা স্বভাবের মানুষেরা স্কুল-কলেজে ভালো ফল করে, নিয়মিত ব্যায়াম করে এবং তাদের মধ্যে বাজে আসক্তি তুলনামূলক কম থাকে। অন্যদিকে রাতে কাজ করা ব্যক্তিরা প্রায়ই মানসিক অবসাদ বা শারীরিক সমস্যায় বেশি ভোগেন।

কিন্তু এর মানে এই নয় যে সকালে উঠলেই আপনি জাদুকরীভাবে সফল হয়ে যাবেন! এর পেছনের আসল কারণটা হলো আমাদের সমাজব্যবস্থা। আধুনিক স্কুল, কলেজ বা অফিস সকাল থেকে শুরু হয়। ফলে ভোরের পাখিরা এই রুটিনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু রাতের পেঁচাদের প্রতিদিন জোর করে সকালে উঠতে গিয়ে ঘুমের বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়। শরীর আর সমাজের এই সময়ের অমিলকে বিজ্ঞানীরা বলেন সোশ্যাল জেটল্যাগ। আর দিনের পর দিন এই জেটল্যাগের কারণে মানুষের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার মতো রোগ বাসা বাঁধে।

ঘুম নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা
ভোরের পাখি মানে এরা প্রাকৃতিকভাবেই খুব ভোরে ওঠে এবং সকালের দিকে কাজে সবচেয়ে বেশি শক্তি পায়। অন্যদিকে রাতের পেঁচা মানে এরা রাতের বেলা সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম থাকে।

জোর করে ভোরে ওঠার ফাঁদ

অনেকেই মনে করেন, জোর করে ভোর ৫টায় ওঠার রুটিন শুরু করলেই হয়তো তিনি সফল হবেন। শুরুতে কয়েক দিন নতুন কিছু করার উত্তেজনায় ভালোও লাগে। কিন্তু আপনি যদি জন্মগতভাবে রাতের পেঁচা হয়ে থাকেন, তবে কিছুদিন পরই এই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া রুটিন আপনার মনোযোগ কমিয়ে দেবে, মেজাজ খিটখিটে করে তুলবে এবং কাজের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে!

সফলতা আসলে ভোরে ওঠার মধ্যে লুকিয়ে নেই; লুকিয়ে আছে আপনার শরীরের বায়োলজিক্যাল রীতির সঙ্গে আপনার দৈনন্দিন কাজের মিল রাখার মধ্যে।

নিজের নাক ডাকার শব্দে নিজের ঘুম ভাঙে না কেন
হঠাৎ করে ভোর ৫টায় ওঠার চেষ্টা না করে, প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট আগে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। সকালে উঠে গায়ে রোদ লাগান এবং রাতে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দিন।

আপনি পেঁচা নাকি পাখি, কীভাবে বুঝবেন

আপনার নিজস্ব ক্রোনোটাইপ বুঝতে হলে ছুটির দিনগুলোর দিকে খেয়াল করুন। যেদিন কোনো অ্যালার্ম বা কাজের তাড়া থাকে না, সেদিন আপনার কখন ঘুম আসে আর কখন ভাঙে? যদি বিছানায় যাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই ঘুম চলে আসে, তবে ওই সময়টাই আপনার শরীরের জন্য উপযুক্ত। আর যদি এক ঘণ্টার বেশি এপাশ-ওপাশ করতে হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার ক্রোনোটাইপ আসলে আরেকটু দেরিতে ঘুমানোর।

ক্রোনোটাইপ বা জিনের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি বদলানো সম্ভব নয়। তবে আপনি চাইলে ধীরে ধীরে শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। হঠাৎ করে ভোর ৫টায় ওঠার চেষ্টা না করে, প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট আগে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। সকালে উঠে গায়ে রোদ লাগান এবং রাতে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দিন।

মনে রাখবেন, অন্যের সফলতার রুটিন অন্ধভাবে নকল করার চেয়ে আপনার শরীর ও মস্তিষ্ক কীভাবে সবচেয়ে ভালো কাজ করে, তা বুঝে নিজের রুটিন তৈরি করাই হলো প্রকৃত প্রোডাক্টিভিটি!

লেখক: সহকারী শিক্ষক, গণিত বিভাগ, পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শরীয়তপুরসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্টরাতে টিভি দেখলে কি ঘুম কমে যায়

Read full story at source