গোদাগাড়ীতে প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’
· Prothom Alo

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠনের কার্যালয় করার জন্য প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকেরা তালা কেটে ভেতরে ঢুকেছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আওয়ামী সরকার পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে ৩২ জন আহত হয়েছিলেন। তাঁরাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’ নামের সংগঠনটি করেছেন। তাঁরা এখন প্রেসক্লাব ভবনে নিজেদের কার্যালয় করতে চান।
Visit turconews.click for more information.
এদিকে গোদাগাড়ীর সাংবাদিকদের একাংশ ২০০৪ সালে উপজেলা প্রেসক্লাব, গোদাগাড়ী নামের এই প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। তখন উপজেলা সদরে একটি ভাড়া ঘরে এর কার্যক্রম চলত। ২০০৯ সালে ডাইংপাড়া মোড়ে সাংবাদিকেরা এক কক্ষের একতলা একটি ভবন নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন এই প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির (তোতা)।
জুলাই যোদ্ধাদের অভিযোগ, আলমগীর কবির আওয়ামী লীগের দোসর। তাঁর উদাহরণ টেনে প্রেসক্লাবটি দখলের চেষ্টা চলছিল আগে থেকেই। এ অবস্থায় সম্প্রতি প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি হন আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম। আর সাধারণ সম্পাদক কালবেলার জামিল আহমেদ। নতুন কমিটির কার্যক্রম দেখার পর প্রেসক্লাবটি দখলে নিতে গতকাল তালা দেওয়া হয়।
এদিনই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’ এর সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে বলা হয়, প্রেসক্লাবের ব্যানারে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টির যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রেসক্লাবের নামে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বাসন কার্যক্রম বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ইউএনওর কাছে এ অভিযোগ দেওয়ার পরই প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝোলানো হয়। এ নিয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলামও গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে সাংবাদিকেরা তালা কেটে ভেতরে ঢোকেন।
প্রেসক্লাবে তালা দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন। তিনি বলেন, ‘ওখানে সব আওয়ামী লীগের দোসররা থাকত। ৫ তারিখের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পরে বন্ধ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কোনো দোসরকে এলাকায় কাজ করতে দেওয়া হবে না।’
আওয়ামী লীগের অনুসারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপনারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন, কিন্তু অন্য সাংবাদিকেরা তো প্রেসক্লাবে বসতে পারেন, এ প্রসঙ্গে মুরশালিন বলেন, ‘অন্য সাংবাদিকেরা সব পাতা। এদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। পেছন থেকে আওয়ামী লীগের দোসরা যা বলবে, এরা তা–ই করবে।’
সংগঠনের সভাপতি সাবিয়ার রহমান (মিল্টন) গোদাগাড়ী পৌর যুবদলের নেতা। সাবিয়ার বলেন, তিনি প্রেসক্লাবে তালা লাগানোর পক্ষেও নন আবার সাংবাদিকতার আড়ালে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন করার পক্ষেও নন। তিনি দাবি করেন, এখন যাঁরা সাংবাদিকতা করছেন, তাঁরা গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দালালি করেছেন।
উপজেলা প্রেসক্লাব, গোদাগাড়ীর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসক্লাব ভবন আমরা কষ্ট করে তিলে তিলে নির্মাণ করেছি। যাঁকে (আলমগীর কবির) নিয়ে আপত্তি, তাঁকে বাদ দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এখানে সাংবাদিকতার চর্চা হয়। তারপরও এটি দখলের চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ কোনো দায়িত্ব নিতে চায়নি। ইউএনওর কাছে গিয়েছিলাম, তিনিও এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, ‘প্রেসক্লাবে তালা দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। আবার প্রেসক্লাবের ব্যাপারে ইউএনওর কাছেও অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টা আমরা হ্যান্ডেল করতে চাচ্ছি না। এটা ইউএনও দেখবেন, কথা হয়েছে।’
ইউএনও নাজমুস সাদাত বলেন, ‘প্রেসক্লাব ওইভাবে কেউ নেয়নি। প্রেসক্লাবে তালা দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকেরা আবার তালা ভেঙে ঢুকেছেন। কার কী সমস্যা, সেটা দুই পক্ষের কথা শুনলে বোঝা যাবে। আমার এখনো কোনো ভাবনা নেই। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনব।’