ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর সাময়িক বরখাস্ত, নিজেকে নির্দোষ দাবি
· Prothom Alo

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার ডিএনসিসির সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
Visit amunra-online.pl for more information.
আরিফুর রহমানকে করা ওই সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৫’, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫’ লঙ্ঘন করে কেনাকাটা করেছেন। তাই ডিএনসিসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা, দুর্নীতিপরায়ণ ও তহবিল তছরুপ বা প্রতারণার দায়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সাধারণত বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীরা দরপত্র প্রক্রিয়া করে থাকেন। ই-জিপি পদ্ধতিতে করা ওই দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী একটি ওয়ার্ক ফ্লো তৈরি করেন। যেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে হন ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ (পিই)। আর দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) নেতৃত্বে থাকেন প্রধান প্রকৌশলী। সবশেষ ধাপে সংস্থার প্রধান বা হোপ দরপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া ডিএনসিসির অঞ্চল-৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান নিজেই দরপত্র আহ্বান করে এবং নিজেই হোপ হয়ে মোট ৪৮টি দরপত্রের অনুমোদন নিজে নিজেই দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫টি দরপত্রের মূল্যায়নের সুপারিশ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সময় হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতেও সংস্থাটির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন তিনি।
আরিফুর রহমানের লিখিত আবেদন অনুযায়ী, ডিএনসিসির তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় গত ১৩ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় তাঁকে বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভাগের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ করতে হয়েছে। এ কাজে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর ল্যাপটপে প্রধান প্রকৌশলীর আইডিতে ঢুকে কাজ করেছিলেন।
যে ১৫টি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করে আরিফুর রহমান বলেন, দরপত্রগুলোর সুপারিশ তাঁর দায়িত্বের সময় শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারির বিকেল ৫টার পর থেকে পরদিন ২৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত, বিকেল ও সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে খুব দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত ই-জিপির সিস্টেমে তাঁর নাম কীভাবে থেকে গেছে, তিনি তা জানেন না।
একটি দরপত্রের সুপারিশও করেননি দাবি করে আরিফুর রহমান বলেন, ডিএনসিসির অঞ্চল-৫–এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বরখাস্ত হয়েছেন) বিভিন্ন দরপত্রের প্রক্রিয়ায় নিজেই দরপত্র আহ্বানকারী ও নিজেই অনুমোদনকারী হিসেবে ‘ওয়ার্ক ফ্লো’ তৈরি করেছেন। মাঝে মূল্যায়নের ধাপটিতে মিজানুর তাঁর আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করে মূল্যায়নের সুপারিশগুলো করেছেন।
আরিফুর রহমানের দাবি, প্রকৌশলী মিজানের এমন প্রতারণা শুধু তাঁর দায়িত্বে থাকার সময়েই হয়নি। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মঈন উদ্দিনের দায়িত্বের সময়ও ৩৩টি দরপত্র প্রক্রিয়ায় একই ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণা করেছেন মিজানুর রহমান। তাই এই ঘটনা তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।