ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জের’ চেষ্টা যেভাবে উন্মোচিত হলো

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ইরানে এই হামলার ধরন ও উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছেন জুলিয়ান বর্গার

কর্মদিবস শুরু হয়ে রাস্তাঘাট ও অফিস জনাকীর্ণ থাকার সময়, সকাল প্রায় সোয়া ৯টার দিকে দিনের আলোতে তেহরানের ওপর বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র পড়তে শুরু করে। আধুনিক যুগে বোমা হামলা সাধারণত রাতে শুরু হয়, যাতে লক্ষ্যবস্তুকে বেশি বিভ্রান্ত করা যায় এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া যায়। তবে এবার ছিল ভিন্ন।

Visit milkshakeslot.com for more information.

ইরানের রাজধানীর রাস্তাগুলো থেকে যে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল, তা সরকারি এলাকার ভবন এবং অভিজাত আবাসিক এলাকার ভিলা থেকে তৈরি হয়েছিল। পরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক হামলাটি ছিল একটি ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা এবং একই সঙ্গে যতটা সম্ভব সরকারি কাঠামো ধ্বংস করা। এত তাৎপর্যপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করাই যৌক্তিক ছিল।

সকাল ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ তেহরানের বাসিন্দারা পাস্তুর স্ট্রিটে দুই দফা বিস্ফোরণের খবর দেন, যেখানে বহু সরকারি ভবন একত্রে অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের কার্যালয়; এই পরিষদই বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মৃত্যুবরণ বা অবসর নিলে নতুন নেতা নির্বাচন করে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র কেন বদলে যাবে

স্যাটেলাইটের ছবিতে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডকে ধূসর ধুলা ও ছাইয়ের স্তূপ হিসেবে দেখা যায়, তবে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো দাবি করে, খামেনি অজ্ঞাত স্থানে নিরাপদে আছেন এবং পেজেশকিয়ানও অক্ষত রয়েছেন। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ঘোষণা দেন যে খামেনি নিহত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা পর (ইরানের) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে—আয়াতুল্লাহ নিহত হয়েছেন।

শুধু বর্তমান নেতৃত্বই লক্ষ্যবস্তু ছিল না। তেহরানে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বাসভবনও ধ্বংস করা হয়; তাঁর পরিণতি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পাস্তুর এলাকা থেকে আহত ব্যক্তিদের বহন করে অ্যাম্বুলেন্স চলে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়; একই সঙ্গে দেশজুড়ে কুম, তাবরিজ, কেরমানশাহ, লোরেস্তান খোররামাবাদ, কারাজসহ বিভিন্ন শহরে হামলার সংবাদ আসে।

একই সময়ে বেসামরিক হতাহতের প্রথম খবর আসে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ১০৮ জন নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলের একটি ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় মানুষেরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন আর এক ব্যক্তি একটি শিশুর ব্যাগ তুলে ধরেছেন।

শহরটিতে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের একটি ঘাঁটি রয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে; তবে কর্মস্থলে লোকজন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে হামলা শুরু করলে স্কুলে আসা শিশু এবং একত্রে থাকা অন্যান্য বেসামরিক মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা যদি রেজিম চেঞ্জের (সরকার পরিবর্তন) উদ্দেশ্যের যথেষ্ট প্রমাণ না হয়, তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ফারসি ভাষায় টুইট করে বিদ্রোহের যে আহ্বান জানায়, তাতে সেটা স্পষ্ট। বার্তায় বলা হয়, ‘আমাদের ইরানি ভাই ও বোনেরা, আপনারা একা নন! আমরা আপনাদের জন্য একটি বিশেষ, অতি সুরক্ষিত টেলিগ্রাম চ্যানেল চালু করেছি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা একসঙ্গে ইরানকে তার গৌরবময় দিনে ফিরিয়ে নেব। সরকারের বিরুদ্ধে আপনাদের ন্যায্য সংগ্রামের ছবি ও ভিডিও আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নিজেদের খেয়াল রাখুন! আমরা আপনাদের পাশে আছি।’

সরকার উৎখাতে ইরানিদের আহ্বান জানানো মোসাদের ভাষা খুব শিগগির ডোনাল্ড ট্রাম্পও পুনরাবৃত্তি করেন। তবে সেটা সরাসরি নয়, বরং শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটনে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধারণ করা একটি রেকর্ডিংয়ে। এটা ওয়াশিংটন সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে (তেহরান সময় আনুমানিক বেলা ১১টা) তাঁর (ট্রাম্প) নিজস্ব ট্রুথ সোশ্যাল চ্যানেলে প্রচারিত হয়।

ইরান কি মাথা নোয়াবে?

সাদা ‘ইউএসএ’ বেজবল ক্যাপ পরে একটি পােডিয়ামে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। আট মিনিটের ভাষণটি শুরু হয় এই দাবি দিয়ে যে হামলাটি করা হয়েছে ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি’ থেকে আমেরিকান জনগণকে রক্ষার জন্য, যাদের তিনি বলেন ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর, ভয়ংকর মানুষদের একটি দল’।

ভাষণটি শেষ হয় ইরানি জনগণকে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে, ‘এখনই সময়, নইলে আর কখনো নয়।’ তিনি (ট্রাম্প) বলেন, ‘আমি আজ রাতে বলছি, আপনাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। আশ্রয়ে থাকুন। ঘর থেকে বের হবেন না। বাইরে খুব বিপজ্জনক। চারদিকে বোমা পড়বে। আমরা শেষ করলে আপনারা সরকার দখল করুন। সেটি আপনাদেরই নেওয়ার জন্য থাকবে। সম্ভবত বহু প্রজন্মের মধ্যে এটাই হবে আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

ট্রাম্প বলতে থাকেন, ‘এখন আপনাদের এমন একজন প্রেসিডেন্ট আছেন, যিনি আপনাদের যা চান, তা দিচ্ছেন। তাই দেখা যাক, আপনারা কীভাবে সাড়া দেন। এখনই সময় আপনাদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার এবং আপনাদের নাগালের ভেতরে থাকা সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ভবিষ্যৎকে মুক্ত করার। এটাই পদক্ষেপ নেওয়ার মুহূর্ত। এটি হাতছাড়া করবেন না।’

অল্প সময়ের মধ্যেই পেন্টাগন জানায়, ইরানের ওপর হামলার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘এপিক ফিউরি’। ইসরায়েল নতুন এই যুদ্ধের জন্য নিজস্ব নাম ঘোষণা করে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’। তারা এর জন্য একটি লোগোও তৈরি করে, যেখানে নীল-সাদা ডেভিডের তারকাখচিত পতাকার সামনে মুখ খোলা অবস্থায় একই নামের সিংহ দাঁড়িয়ে আছে।

দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায়, ট্রাম্পের ভাষণের প্রায় একই সময়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি (নেতানিয়াহু) তাঁর (ট্রাম্প) নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের তৈরি অস্তিত্বগত হুমকি দূর করার’ বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

সকালের বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, যৌথ হামলার প্রস্তুতিতে দুই দেশের সেনাবাহিনী মাসের পর মাস ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করেছে। নানা উপাদান একসঙ্গে মিলিত হওয়ার ফল হিসেবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়েছে বলে মনে হয়।

ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন একটি ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে জেনেভায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই মুলতবি হয়।

আরাগচি বলেন, ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা ওমানি কর্মকর্তারা জানান, আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হবে।

আমেরিকানরা কিছুই বলেনি। এখন স্পষ্ট যে উইটকফ ও কুশনারকে জেনেভায় পাঠানো হয়েছিল এই আশায় যে তাঁরা ইরানকে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করাতে পারবেন; শুধু দেশটির (ইরান) পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও বন্ধ করার শর্তে। ট্রাম্পের নৌবহর একত্র হয়ে গেলে কোনো ইরানি প্রস্তাবই হয়তো যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হতো না।

ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্প ‘খুব সন্তুষ্ট নই’ বলে ঘোষণা করেন। পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্পসমূহ নিয়ে চূড়ান্ত ব্রিফিং দেন; আর প্রায় একই সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড দুই সপ্তাহের যাত্রা শেষে হাইফায় পৌঁছায় পশ্চিম আটলান্টিক থেকে, যেখানে গত মাসে এটি ওয়াশিংটনের আরেক প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে উৎখাতে অংশ নিয়েছিল।

ফোর্ড এবং তার সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ারগুলোর (যুদ্ধজাহাজ) উপস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘আর্মাডা’ পূর্ণতা পায়—২৩ বছর আগে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সমর সমাবেশ। এটি বৃহৎ আকাশযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি অনিবার্য ইরানি পাল্টা হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষায়ও সহায়ক ছিল।

শুক্রবার ফোর্ড যখন নোঙর করে, তখন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর কর্মীদের একটি মেমো পাঠিয়ে জানান, তাঁরা যদি দেশ ছাড়তে চান, তবে সেদিনই টিকিট কিনে যেকোনো বিদেশি গন্তব্যে চলে যেতে পারেন।

সময় ফুরিয়ে আসছে বুঝতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জরুরি সফরে ওয়াশিংটনে যান। সেখানে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কূটনীতির জন্য আরও কিছু সময় দেওয়ার আবেদন জানান। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের মিশন ব্যর্থ এবং বোমা হামলা শুরু হয়েছে—এ খবর পেয়ে আলবুসাইদি হতাশা প্রকাশ করেন।

বদর আলবুসাইদি এক্স বার্তা পাঠান, ‘সক্রিয় ও গুরুতর আলোচনা আবারও ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কিংবা বৈশ্বিক শান্তির উদ্দেশ্য—কোনোটিই সুরক্ষিত হচ্ছে না। আর যেসব নিরপরাধ ভুক্তভোগী হবেন, তাঁদের জন্য আমি প্রার্থনা করছি। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করছি, যেন তারা আরও গভীরে জড়িয়ে না পড়ে। এটি আপনাদের যুদ্ধ নয়।’

আলবুসাইদির কথাগুলো খুব দেরিতে এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্র তার অস্থির স্বভাবের প্রেসিডেন্টের কারণে ইতিমধ্যেই একটি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, যা দ্রুত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি শনিবার সকালে ঘোষণা দেন, ‘আমরা আপনাদের সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু এখন আপনারা এমন এক পথে হাঁটা শুরু করেছেন, যা আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার অঞ্চলজুড়ে সব দিকে নিক্ষেপ করা হয়—ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

বাহরাইনের রাজধানী মানামার ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে ধূসর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে থাকে এবং সরকার ওই এলাকা থেকে জনগণকে সরিয়ে নেয়। দুবাইয়ের অভিজাত পাম জুমেইরাহ এলাকায় আঘাত হানার পর পাঁচতারা ফেয়ারমন্ট হোটেলে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে আবুধাবিতে প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়।

ওয়াশিংটনে কংগ্রেস সদস্যরা যখন ঘুম থেকে ওঠেন, ততক্ষণে উপসাগর অঞ্চল জ্বলছে—এমন এক যুদ্ধের কারণে, যার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি; শুধু মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘গ্যাং অব এইট’ হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস নেতাদের একটি ব্রিফিং দিয়েছিলেন।

সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জ্যাক রিড বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের স্পষ্ট ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের দেশকে ইরানের সঙ্গে এক বড় যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছেন। এর পক্ষে তিনি কখনো যুক্তি তুলে ধরেননি, কংগ্রেসের অনুমোদন চাননি এবং যার কোনো শেষ লক্ষ্যও নির্ধারণ করেননি।’

তেহরানে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে কোন নেতা নিহত হয়েছেন আর কে বেঁচে আছেন—এ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে; আর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যখন অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) ভবিষ্যৎ নিয়ে পাশা খেলেছেন, তখন ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

  • গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া

  • জুলিয়ান বর্গার গার্ডিয়ান–এর জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ এবং বলকান অঞ্চলে সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন

  • অনুবাদ: মনজুরুল ইসলাম

  • মতামত লেখকের নিজস্ব

Read full story at source