ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে ইবিএল

· Prothom Alo

ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে জীবনকে গতিশীল, নিরাপদ ও সহজ করার অন্যতম মাধ্যম ব্যাংক কার্ড। গ্রাহকদের সহজ ও ঝামেলাহীন লেনদেনে অভ্যস্ত করতে প্রথম আলো ডটকম তৃতীয়বারের মতো ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ করেছে। এতে অংশ নিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি। আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা ও নিজেদের আধুনিক কার্ড সেবার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ইভিপি ও হেড অব কার্ডস তাসনিম হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ নিজামী

ইস্টার্ন ব্যাংকের ইভিপি ও হেড অব কার্ডস তাসনিম হোসেন

প্রথম আলো: প্রথম আলো ডটকম তৃতীয়বারের মতো ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ করেছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

Visit goldparty.lat for more information.

তাসনিম হোসেন: প্রথম আলোর মতো একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম যখন এমন সৃজনশীল ও ভবিষ্যৎমুখী আয়োজন করে, তখন তা অংশগ্রহণকারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে ব্যাংকিং ও কার্ডভিত্তিক সেবার ব্যাপারে মানুষ অবগত হবেন। পেমেন্ট কার্ডের বিভিন্ন আকর্ষণীয় সুবিধার ব্যাপারে জানার মাধ্যমে গ্রাহক কার্ড নিতে আগ্রহী হবেন। এর ফলে আমরাও একটি ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাব।

প্রথম আলো: বর্তমানে আপনাদের ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডগুলোয় গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কী কী সুবিধা বা রিওয়ার্ড অফার রয়েছে?

তাসনিম হোসেন: পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি আকর্ষণীয় সব অফার। স্বপ্ন, মীনা বাজার, আগোরা, হোলসেল ক্লাবসহ বেশ কিছু গ্রোসারি আউটলেটে নির্দিষ্ট ইবিএল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আমরা দিচ্ছি ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ইবিএল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আড়ং, সেইলর, টপ টেনসহ ১০টির বেশি জনপ্রিয় ফ্যাশন আউটলেটে থাকছে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। রোজার শপিং আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে রয়েছে জিপের (ZIP) মাধ্যমে ইএমআই–সুবিধা ও ক্যাশব্যাক। এ ছাড়া ডেবিট কার্ড হোল্ডাররাও পাচ্ছেন ট্রাভেল, লাইফস্টাইল, হোটেলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির অসংখ্য মার্চেন্ট আউটলেটে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়। ডেবিট ও ক্রেডিট—দুটি কার্ডের সঙ্গেই থাকছে কন্ট্যাক্টলেস ও ই–কমার্স লেনদেনের সুবিধা।

প্রথম আলো: অনলাইন কেনাকাটা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্ডগুলো গ্রাহকের কতটা আস্থা অর্জন করতে পারছে?

তাসনিম হোসেন: গ্রাহকের অনলাইন কেনাকাটায় বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে আমাদের রয়েছে দারাজ কো–ব্র্যান্ড ক্রেডিট কার্ড, যেখানে কার্ড হোল্ডাররা পাচ্ছেন বছরব্যাপী ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রয়েছে আমাদের শেয়ারট্রিপ কো–ব্র্যান্ড কার্ডগুলো, যার সঙ্গে গ্রাহক পাচ্ছেন কমপ্লিমেন্টারি গ্লোবাল লাউঞ্জের সুবিধা এবং ফ্লাইট ও হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যছাড়। টু–ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ও ওটিপির মাধ্যমে বাড়তি নিরাপত্তা আর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার জন্য আমাদের এই কার্ডগুলো অল্পদিনেই গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে নিয়েছে।

প্রথম আলো: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আপনাদের ব্যাংকের কার্ডে কোন ধরনের শক্তিশালী প্রযুক্তি বা সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে?

তাসনিম হোসেন: গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্যই ইবিএলের কার্ডগুলোকে বহুমাত্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সুরক্ষিত করেছি। আমাদের কার্ডগুলোয় থাকা ইএমভি চিপ কার্ডের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি কার্ডটি হারিয়ে গেলে ওটিপি বা পিন দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ার কারণে গ্রাহক ছাড়া অন্য কেই কার্ডটি দিয়ে কোনো লেনদেন বা টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। এ ছাড়া ‘ইবিএল ওয়ার্ল্ড এলিট বায়োমেট্রিক মেটাল’ ক্রেডিট কার্ডটি গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান দিয়ে ব্যবহারযোগ্য।

প্রথম আলো: ইস্টার্ন ব্যাংক দেশে প্রথমবারের মতো ‘ওয়্যারেবল’ (পরিধানযোগ্য পেমেন্ট ডিভাইস) চালু করেছে। সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডের বিকল্প হিসেবে এই রিং বা ব্যান্ডের মতো প্রযুক্তি গ্রাহকদের জীবনযাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন আনছে?

তাসনিম হোসেন: দেশে প্রথমবারের মতো ‘ওয়্যারেবল’ চালু করাটা ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডের বিকল্প হিসেবে রিং বা ব্যান্ডের মতো প্রযুক্তি গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের লেনদেন হয়েছে আরও সহজ ও দ্রুত। আলাদা করে মানিব্যাগ বা কার্ড বের করার প্রয়োজন নেই। হাতে পরা ডিভাইসের মাধ্যমে মুহূর্তেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যায়। এতে কার্ড হারানো বা চুরি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। কারণ, ডিভাইসটি সব সময় ব্যবহারকারীর সঙ্গেই থাকে। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সুবিধাজনক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ওয়্যারেবল পেমেন্ট ডিভাইস গ্রাহকের ক্যাশলেস অভ্যস্ততায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রথম আলো: ভ্রমণপিপাসু ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংকের কার্ডগুলোয় বিশেষ কী ফিচার রয়েছে, যা অন্য ব্যাংকের চেয়ে আপনাদের আলাদা করে?

তাসনিম হোসেন: ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আমরা এনেছি ‘শেয়ারট্রিপ কো–ব্র্যান্ড’ কার্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা উপভোগ করতে পারবেন কমপ্লিমেন্টারি স্কাইলাউঞ্জ ও গ্লোবাল লাউঞ্জ অ্যাকসেস। আর ফ্লাইট ও হোটেল বুকিংয়ে পাবেন আকর্ষণীয় ছাড়। এ ছাড়া খুব সহজেই পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট ও কারেন্সি কনভার্সনের সুবিধা আরামদায়ক করে তোলে গ্রাহকের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। আর ২৪/৭ অনলাইন গ্রাহকসেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কার্ডসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে পাশে রয়েছে ইবিএল।

প্রথম আলো: বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং ও গ্লোবাল ই–কমার্স বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আপনাদের ডুয়েল কারেন্সি কার্ডগুলো গ্রাহকদের ঘরে বসে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও কারেন্সি রূপান্তর কতটা সহজ করছে?

তাসনিম হোসেন: ঘরে বসেই ব্যাংকিংয়ের সুবিধার্থে আমরা বেশ কিছু পণ্য ও সেবা নিয়ে এসেছি। আমাদের ভার্চ্যুয়াল প্রিপেইড কার্ড চারটি স্কিমের অধীনে ইস্যু করা হয়, যা মাত্র কয়েক মিনিটে স্কাইব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে নামানো সম্ভব। শুধু তা–ই নয়, এন্ডোর্সমেন্ট করা যেকোনো কার্ডে সহজেই স্কাইব্যাংকিং অ্যাপে মুহূর্তের মধ্যে কারেন্সি রূপান্তর করা সম্ভব। নিরাপত্তার সুবিধার্থে ব্যবহারকারী চাইলেই অ্যাপের মাধ্যমে ফরেন কারেন্সি পার্টটি বন্ধ রাখতে পারেন। এসব ফিচার আমাদের কার্ডগুলোকে করে তুলেছে অত্যন্ত জনপ্রিয় আর বিশেষ করে ডুয়েল কারেন্সি লেনদেনের জন্য প্রথম পছন্দ।

প্রথম আলো: গ্রাহকদের সচেতন করতে এবং স্মার্ট লেনদেনে উৎসাহ দিতে প্রথম আলো ডটকমের ‘অনলাইন ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ কেমন ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন?

তাসনিম হোসেন: প্রথমত, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকেরা কার্ড ব্যবহারের সুবিধা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ঝুঁকি এড়ানোর উপায় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল পেমেন্টের গতি, স্বচ্ছতা ও ক্যাশলেস লেনদেনের সুবিধাগুলো সামনে এলে মানুষ ধীরে ধীরে স্মার্ট লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এমন আয়োজন শুধু সচেতনতা বাড়ায় না; বরং নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

তাসনিম হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Read full story at source